আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মতো আরও অনেক অজানা চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এ লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নৈতিকতা, পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।
সিইসি বলেন, আগে অনেক নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু বর্তমানে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এআই এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মতো আরও নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, যেটা আমরা এখনো জানি না। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এ সময় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব ও ইটিআই মহাপরিচারলকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
‘বিতর্কিত ভোটের’ জন্য সাবেক দুই সিইসি এখন কারাবন্দি। এক সাবেক সিইসির গলায় জুতার মালা দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগের বিষয়টিও তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনাররা।
এসময় পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে এবারের নির্বাচনে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্বাচনী কর্মকর্মতাদের নির্দেশ দেন তিনি। সিইসি বলেন, পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নৈতিকতা ঠিক থাকে যেন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আইনকানুনের বাইরে যাওয়া যাবে না।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ তো আছেই, এর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াজনিত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য (মিস ইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন) মোকাবেলায় নির্বাচন কমিশন আলাদা সেল গঠন করবে।
নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যোগাযোগ ভেঙে পড়া মানেই সবকিছু ভেঙে পড়া। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় বার্তা যেন সঠিকভাবে পৌঁছায়, সেদিকে মনোযোগী হতে হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে যে অর্থ ব্যয় করা হয়, সেটিকে ব্যয় নয় বরং বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত। আপনি যখন স্বাস্থ্য বা শিক্ষায় টাকা খরচ করেন, আসলে সেটি বিনিয়োগ। একইভাবে প্রশিক্ষণে ব্যয়ও একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে সিইসি আরও বলেন, একটি ছোট বার্তা কয়েক ধাপ পেরিয়ে পৌঁছাতে গিয়ে বিকৃত হয়ে যায়। নির্বাচনেও একই ঝুঁকি থাকে। তাই মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং সঠিকভাবে নোট নিতে হবে। পেছনের সারিতে বসা প্রশিক্ষণার্থীরা প্রায়ই ঝিমায়। এতে যোগাযোগ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।
এরপর প্রশিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আইনকানুন শেখানোর পাশাপাশি ভুয়া তথ্য প্রতিরোধের দায়িত্বও নিতে হবে এবং এ বার্তা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে দিতে হবে।